আবেগিক শূন্যতা বনাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সফল জীবন
আমরা সবাই এরকম অনুভূতি এবং মনের শুন্যতার সাথে পরিচিত:
- “আমাকে কেউ ভালোবাসে না।”
- “বাসায় কেউ আমাকে নিয়ে মাথা ঘামায় না।”
- “কেউ আমাকে সম্মান করে না।”
- “আমার কোনো মর্যাদা নেই।”
- “আমার কথা কেউ শোনে না।”
- “কেউ আমাকে বোঝে না।”
- “সবাই আমাকে এড়িয়ে যায়, কেউ খেয়ালই করে না।”
আমরা কিভাবে নিজেদের মনের বহুমুখী বিশৃঙ্খল আবেগের বহুমুখী রশি টানাটানির / Tug of War সমাধান করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সফল জীবন অর্জন করতে পারি?
পুরো প্রবন্ধ পড়ার সময় না থাকলে, এর সরমর্ম হলো:
জগতের সমস্যা না থাকাই অন্তরের শান্তি নয়। বিশৃঙ্খলা/এনট্রপি কেবল বেড়েই চলবে।
অন্তরের শান্তি হলো আল্লাহর কাছে শান্তি খুঁজে পাওয়া একটি মন ও আত্মা।
এই অনুভূতিগুলো সত্যিকারের এবং অনেক সময় বেশ কষ্টের। আর পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই কোনো না কোনোভাবে এই কষ্ট বহন করে।
graph LR subgraph emotional[" আবেগিক শূন্যতা "] A1["কেউ ভালোবাসে না"] A2["কেউ মাথা ঘামায় না"] A3["কেউ সম্মান করে না"] A4["কথা কেউ শোনে না"] end subgraph external[" দুনিয়া "] B1["চাকরি ও ক্যারিয়ার"] B2["প্রতিযোগিতা"] B3["আর্থিক সমস্যা"] B4["দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা"] end A1 -.->|চাপ| C A2 -.->|চাপ| C A3 -.->|চাপ| C A4 -.->|চাপ| C B1 -.->|চাপ| C B2 -.->|চাপ| C B3 -.->|চাপ| C B4 -.->|চাপ| C C["মানুষের মন"] style C fill:#ff6b6b,stroke:#c92a2a,color:#fff style emotional fill:#e3f2fd,stroke:#1976d2 style external fill:#fff3e0,stroke:#f57c00
আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো মনের এই খালি জায়গা পূরণ করার হালাল উপায়ও আছে, আবার হারাম উপায়ও আছে।
flowchart TD
A[আবেগিক শূন্যতা] --> B{সমাধানের পথ}
B --> C[হালাল উপায়]
B --> D[হারাম উপায়]
C --> E[স্থায়ী কল্যাণ]
D --> F[অস্থায়ী সন্তুষ্টি]
style A fill:#ff6b6b,stroke:#c92a2a,color:#fff
style B fill:#4dabf7,stroke:#1976d2,color:#fff
style C fill:#51cf66,stroke:#2b8a3e,color:#fff
style D fill:#ffa94d,stroke:#f57c00,color:#fff
style E fill:#40c057,stroke:#2f9e44,color:#fff
style F fill:#ffd43b,stroke:#f08c00,color:#000
আমরা কেন এরকম অনুভব করি?
“আর মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।” — সূরা আন-নিসা ৪:২৮
মনের এই শূন্যতাগুলো আছে কারণ আল্লাহ আমাদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন: শরীরের দিক থেকে দুর্বল, আর মনের দিক থেকে অল্পতেই শক্তি/চার্জ ফুরিয়ে যায়। বারবার নতুন করে শক্তি দরকার হয়। আমাদের এনার্জি, উৎসাহ আর মানসিক শক্তি খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। এটা কোনো দোষ না, কোনো শাস্তিও না। আল্লাহ ইচ্ছা করেই আমাদের এভাবে বানিয়েছেন।
flowchart TD A1[শক্তি ফুরিয়ে যায়] --> A2[খাবার খাই] --> A3[শরীর পুনরুজ্জীবিত] --> A1[শক্তি ফুরিয়ে যায়] style A1 fill:#e7f5ff,stroke:#1971c2 style A2 fill:#e7f5ff,stroke:#1971c2 style A3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
flowchart TD B1[মস্তিষ্ক ক্লান্ত] --> B2[ঘুমাই] --> B3[মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়] --> B1[মস্তিষ্ক ক্লান্ত] style B1 fill:#f3f0ff,stroke:#7950f2 style B2 fill:#f3f0ff,stroke:#7950f2 style B3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
flowchart TD C1[মনের শূন্যতা,<br />আবেগিক তাড়না] --> C2[??? - আমরা এটাই বের করবো] --> C3[মন প্রশান্ত হয়] --> C1[মনের শূন্যতা,<br />আবেগিক তাড়না] style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131 style C2 fill:#e3fafc,stroke:#0c8599 style C3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
সমাধান খুব সহজ নয়, তবে খুবই সম্ভব
আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে থাকা বড় বড় ভারসাম্যের জোড়াগুলোর কসম খেয়েছেন কুরআনে (৯১: ১-৭):
- দিন আর রাত
- সূর্য আর চাঁদ
- আকাশ আর পৃথিবী
- এবং তারপর কসম খেয়েছেন নাফসের (আত্মার)
আর কীভাবে তিনি সেটাকে নিখুঁতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করে বানিয়েছেন।
আমাদের ভাঙা বা অসম্পূর্ণ করে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। প্রকৃতির সবকিছুর মধ্যে যেমন ভারসাম্য আছে, আল্লাহও ঠিক তেমনি মানুষের ভেতরেও ভারসাম্য দিয়েছেন।
আল্লাহ আমাদের জন্য বাড়ির কাজ দিয়েছেন: আমাদের নিজের ভেতরের সেই ভারসাম্যকে খুঁজে বের করা এবং সেটাকে কাজে লাগাতে শেখা।
আমাদের ভেতরের দুটো শক্তি: তাড়না আর তাকওয়া
আল্লাহ নাফসের ভেতরে দুটো জিনিসই দিয়েছেন: ফুজূর (তাড়না, খারাপ কাজের ইচ্ছা) আর তাকওয়া (আল্লাহর ভয়, নিজেকে সামলে রাখার ক্ষমতা)। আবারও দেখা যেতে পারে:
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম (ফুজূর) ও সৎকর্মের (তাকওয়া) জ্ঞান দান করেছেন।
সুরাহ আশ-শামস (৯১: ৮)
ফুজূর শব্দটা এসেছে সেই একই মূল থেকে যেখান থেকে ফজর এসেছে। এর মানে হলো বিস্ফোরণ। আমাদের ভেতরের তাড়না / impulse আর আবেগের বিস্ফোরণ / explosion: রাগ, লোভ, হিংসা। এগুলো যেকোনো ধরনের আবেগ হতে পারে, আর এগুলো না সামলালে বাইরের দিকে বিস্ফোরিত হয়।
তাকওয়া হলো এর বিপরীত শক্তি: থামার ক্ষমতা, নিজের তাড়নাকে আটকে রাখার ক্ষমতা।
আমাদের দুটোই দরকার। তাড়না থাকাটা মানুষ হওয়ার অংশ। কিন্তু সেই তাড়নাকে তাকওয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
তাড়না মানুষের গাড়ির এক্সেলারেটর। তাকওয়া মানুষের গাড়ির ব্রেক।
তাড়না ও তাকওয়ার রশি টানাটানি
graph TD
Start[মানুষ] --> Decision{কোনটা শক্তিশালী?}
Decision -->|তাড়না 💪<br/>তাকওয়া 😔| Chaos[বিস্ফোরণ <br/>অনিয়ন্ত্রিত জীবন]
Decision -->|তাকওয়া 💪<br/>তাড়না 😔| Peace[প্রশান্তি ও শক্তি <br/>ভারসাম্যময় জীবন]
style Start fill:#4dabf7,stroke:#1976d2,color:#fff,font-size:1.25rem
style Decision fill:#e3f2fd,stroke:#1976d2,font-size:1.25rem
style Chaos fill:#ff6b6b,stroke:#c92a2a,color:#fff,font-size:1.25rem
style Peace fill:#51cf66,stroke:#2b8a3e,color:#fff,font-size:1.25rem
চতুর্ভাগ চিত্র
| তাকওয়া ↓ / তাড়না → | সর্বনিম্ন তাড়না | সর্বোচ্চ তাড়না |
|---|---|---|
| সর্বোচ্চ তাকওয়া | শক্তিহীন নির্বাসন উপযোগী জীবন | নিয়ন্ত্রিত শক্তি ও সাফল্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ✅ |
| সর্বনিম্ন তাকওয়া | উদ্দেশ্যহীন নিস্তেজ জীবন | বিস্ফোরণ অবিরাম অনিয়ন্ত্রিত জীবন |
আসলে, কম, বেশি, সমান এইভাবে তুলনা করা চলে না। তাকওয়ার তুলনামূলকভাবে বেশি নিয়ন্ত্রণ তাড়নার ওপর থাকতে হবে।
তাহলে বোঝা গেল তাকওয়াই আবেগিক শুন্যতার খাবার। কিন্তু, এটাকে কিভাবে ব্যবহার করবো?
তার আগে দেখা যাক, আবেগিক শুন্যতা পূরণের উপায়গুলোর মধ্যে পার্থক্য কি।
flowchart TD C1[মনের শূন্যতা,<br />আবেগিক তাড়না] --> C2[তাকওয়া] --> C3[মন প্রশান্ত হয়] --> C1[মনের শূন্যতা,<br />আবেগিক তাড়না] style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131 style C2 fill:#e3fafc,stroke:#0c8599 style C3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
আবেগিক শুন্যতা পূরণের কি কি উপায় আছে
| হারাম পথ: তাৎক্ষণিক তৃপ্তি / instant gratification | হালাল পথ: বরকতময় পথ |
|---|---|
| দ্রুত সমাধান | দেখতে তৎক্ষণাৎ আকর্ষণীয় সমাধান মনে হয় না |
| যে হৃদয় আর-রাহমানের ইবাদত করছে না, সে হৃদয় শয়তানের ইবাদত করছে (ওমর সুলাইমান) | সাহস, শক্তি এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা দরকার |
| শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে | বরকতপূর্ণ, দীর্ঘমেয়াদি পথ |
| শয়তানের কাছে অভিশপ্ত সমাধান আছে | আল্লাহ আমাদের এই চাহিদাগুলো দিয়েছেন, সাথে সাথে সেগুলো পূরণের বরকতময় উপায়ও আল্লাহের কাছে আছে এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখা |
| শয়তান নফসের নিয়ন্ত্রণে | সবসময় নিজের তাড়না পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং হিদায়া/সঠিক দিকনির্দেশনার সর্বক্ষণ সরবরাহ দরকার |
সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য হতে রক্ষা করা হয়; তারাই তো সফলকাম।
সুরাহ আত-তাঘাবুন (৬৪:১৬)
অতএব দেখা গেল, দিন-রাত, সূর্য-চাঁদ, আকাশ-পৃথিবী এই বড় বড় ভারসাম্যের জোড়গুলোর মতো, আমাদের নিজের ভেতরের সেই ভারসাম্যকে তাকওয়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। শুধু তাই না, যেহেতু আল্লাহ বলেছেন তিনি নিখুঁতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন, তার মানে হলো আমাদের ভেতরের ভারসাম্যকে তাকওয়া দিয়ে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
তাহলে মোটা দাগে কিছু প্রশ্ন জাগে:
- তাকওয়া আসলে কেন/কিভাবে কাজ করে?
- কিন্তু, তাকওয়া দিয়ে কিভাবে তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ করবো?
- এই পরিমাণ শক্তি ও হিদায়ার সরবরাহ কিভাবে পাওয়া যাবে?
- আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা কিভাবে আনা যায়?
তাকওয়া আসলে কেন/কিভাবে কাজ করে?
অনেকেই বাইরের বিভিন্ন উপায়ে মনের শান্তি খোঁজেন:
- “আমি ব্যায়াম করে দেখেছি।”
- “আমি অনেক রুটিন ফলো করে দেখেছি।”
- “আমি থেরাপিও নিয়েছি…”
মাঝে মাঝে কাজ করে। মাঝে মাঝে করে না। এগুলো ধারাবাহিকভাবে কাজ না করার পেছনে কারণ হতে পরে হয়তো আমরা আমাদের ভেতরের আলো / নূর / রুহের সাথে সঠিক আচরণ করছি না। মুসলিম/অমুসলিম সবাইকে আল্লাহ রুহের মাঝে একটা স্বাভাবিক দিকনির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। যেটা আমরা আগেই দেখেছি তাড়না ও তাকওয়া নিয়ে জেনেছি যখন।
কিন্তু আমরা হয়তো সেটাকে উপেক্ষা করছি, তার চাহিদাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। আমাদের ভেতরের এই আলো রিচার্জ হয় আল্লাহর কালামের / কুরআনের আলো থেকে। সেই সংযোগ না থাকলে এটা ধীরে ধীরে নিভু নিভু হয়ে যায়।
flowchart TD C1[রুহের চাহিদা] Quran[কুরআন] C2[আল্লাহের নূর] C3[তাকওয়া রিচার্জ/পুনরুজ্জীবিত হয়] Quran --> C2 C1 --> C2 C2 --> C3 C3 --> C1 style Quran fill:#ffd43b,stroke:#f08c00,color:#000 style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131 style C2 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44 style C3 fill:#e3fafc,stroke:#0c8599
অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এবং আমি যে নূর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আন। আর তোমরা যে আমল করছ আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
সুরাহ আত-তাঘাবুন (৬৪: ৮)
সরলীকরণ করলে দেখা যায় কুরআন তাকওয়া শক্তিশালী করছে, যা তাড়না নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে একটা ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য।
flowchart TD C1[কুরআন] C2[তাকওয়া] C3[তাড়না] C4[ভারসাম্য ও সাফল্য] C1 --> C2 C2 --> C4 C3 --> C4 C2 -->|নিয়ন্ত্রণ| C3 style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131 style C3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44 style C2 fill:#e3fafc,stroke:#0c8599 style C3 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
আমরা এর আগে প্রশ্ন করেছি, দীর্ঘমেয়াদি আবেগিক প্রশান্তি এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সফল জীবনের জন্য আল্লাহের তরফ থেকে শক্তি, হিদায়া / guidance, আল্লাহের ওপর পরিপূর্ণ আস্থা, দরকার।
%%{init: {'theme':'base', 'themeVariables': { 'fontSize':'40px', 'fontFamily':'Noto Serif Bengali'}}}%%
flowchart LR
C1[যে কোন কাজের আগে 'তাকওয়াই প্রথম' চিন্তাধারা]
C2[সার্বক্ষণিক আল্লাহের হিদায়া চাওয়া]
C3[আল্লাহের সমাধানই বরকতময় তাতে পরিপূর্ণ আস্থা]
C4[দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য্য]
C5[কুরআন, আল্লাহের নূর]
C6[রুহের চাহিদা]
C10[টেকসই তাকওয়া]
C1 --> C10
C2 --> C10
C3 --> C10
C4 --> C10
C6 --> C10
C5 -->|তাকওয়া রিচার্জ/পুনরুজ্জীবিত হয়| C6
style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C2 fill:#fff5f5,stroke:#e03131,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C3 fill:#fff5f5,stroke:#e03131,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C4 fill:#fff5f5,stroke:#e03131,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C5 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C6 fill:#fff5f5,stroke:#e03131,stroke-width:2px,font-size:3.75rem
style C10 fill:#ffd43b,stroke:#f08c00,stroke-width:3px,font-size:3.75rem
‘তাকওয়াই প্রথম’ চিন্তাধারা
আমরা তাকওয়া দিয়ে কিভাবে তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ করবো?
তাড়না শক্তিশালী। আমাদের এবং সব পশুপাখিদের ডিফল্ট হলো তাড়নার জবাব যত দ্রুত সম্ভব বের করা। ক্ষুধা লাগলে খেতে হবে, ইট খেলে সাথে সাথে একটা পাটকেলও ছুঁড়তে হবে, রাগ উঠলে রেগে যেতে হবে, ইত্যাদি। কিন্তু মানুষ পশু থেকে এইদিক থেকে শক্তিশালি যে সে ডিফল্টের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে পারে।
আমাদের প্রতিটি কাজ হবে আল্লাহকে খুশি করার জন্য।
কাজ (বিচার) হয় উদ্দেশ্য (নিয়ত) দিয়ে।
বুখারি ও মুসলিম
যেকোন তাড়নার জবাব দিতে আগেই ভাবতে হবে এতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন?
“তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।“
সূরা আল-ফাজর ৮৯:২৮
যতটা অপূর্ণতা ও অশুন্যতাই আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন, মনে রাখতে হবে, কেবল আল্লাহের কাছেই এগুলোর সমাধান আছে। এটা মনে রেখে, তাকওয়াকেই ‘প্রথম’ সুযোগ দিয়ে নিজের তাড়নাকে পরিচালিত করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহকেই সন্তুষ্টচিত্তে ‘প্রথম’ গুরুত্ব দিলাম।
ফলে আমরা আয়াতটির শর্ত পূরণ করলাম, এখন আল্লাহ কবুল করলে তিনিও আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
আমরা তাকওয়া অনুসরণ করে যে পদক্ষেপ নিয়েছি তার জন্য যদি আল্লাহ আমাদের উপর খুশি থাকেন, তাহলে আমাদের চারপাশের মানুষ অখুশি হলেও, বাইরের দুনিয়া যতই অশান্ত হোক, আমাদের ভেতরটা থাকবে প্রশান্ত।
%%{init: {'theme':'base', 'themeVariables': { 'fontSize':'50px', 'fontFamily':'Noto Serif Bengali'}}}%%
flowchart TD
C1[তাড়না]
C2[টেকসই তাকওয়া]
C3[দুনিয়ার অপূর্ণতা]
C4[আবেগিক শূন্যতা]
C10[ভারসাম্য ও সাফল্য]
C2 -->|নিয়ন্ত্রণ| C1
C3 --> C1
C4 --> C1
C2 --> C10
C1 --> C10
style C1 fill:#fff5f5,stroke:#e03131
style C2 fill:#fff5f5,stroke:#e03131
style C10 fill:#d3f9d8,stroke:#2f9e44
কিন্তু, সর্বক্ষণ শক্তি ও হিদায়ার সরবরাহ কিভাবে পাওয়া যাবে?
আমাদের যেমন একটু পর পর পানির তৃষ্ণা পায়, আমাদের প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আল্লাহের কাছে শক্তি ও হিদায়া খুঁজতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার শক্তি ও হিদায়া। শুধু আজকের জন্য হিদায়া না, কেবল একটা বিষয়ে হিদায়া না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
ইহদিনাস সিরতাল মুস্তাকিম
তাই সংক্ষেপে গেম প্ল্যান:
- ‘তাকওয়াই প্রথম’ চিন্তাধারার মাধ্যমে তাড়নার নিয়ন্ত্রণ এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পারতপক্ষে এড়িয়ে চলা
- তাকওয়া টেকসই রাখতে কুরআনের সাথে নিয়মিত সংযুক্ত থাকা
- শক্তি ও হিদায়ার জন্য সার্বক্ষণিক আল্লাহের কাছে চাওয়া
- আল্লাহের সমাধানই বরকতময় তাই আল্লাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও পরিপূর্ণ আস্থা রাখা
পাদটীকা
প্রবন্ধটি বিভিন্ন সময়ে নেয়া বায়্যিনাহ টিভির পাঠ, খুতবাহ এবং ওমর সুলাইমানের বক্তব্য থেকে সংশ্লেষিত।